একটা সময় ছিল রত্ন পাথর আসল নকল পরিক্ষায় “ডাইমন্ড সিলেক্টর” নামক একটি মেশিনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেত। ঐ মেশিনটি দিয়ে যে শুধু মাত্র পাথরটি কতটা শক্ত সেটা ছাড়া আর কিছুই মাপা যেত না তা আমরা গত ৮ বছর ধরেই বলে আসছি। সেই মেশিনটি দিয়ে পাথরের হার্ডনেসের লাইট দেখিয়ে পাথরটি আসল হিসেবে উল্লেখ করে বিক্রি করা হত। কিন্তু ঐ মেশিনে আসল এবং নকল পাথরের হার্ডনেস এক হওয়ার কারনে যে নকলটি আসল বলেই বিক্রি হয়েছে এতকাল।

এখন সেই হার্ডনেস টেস্টিং মেশিনের গোমর ফাস হয়ে যাওয়াতে নতুন এক ফর্মুলা চালু হয়েছে সারা পৃথিবী ব্যাপী। আজকাল প্রায় প্রতিটা ক্রেতাই রত্ন পাথর ক্রয়ের সময় ল্যাব টেস্ট সার্টিফিকেট আছে কিনা জানতে চান, অন্যদিকে অনেকেই রত্ন পাথর বিক্রির সময় সাথে একটি টেস্ট সার্টিফিকেট যুক্ত করে দেন। প্রশ্ন হচ্ছে ল্যাব টেস্ট সার্টিফিকেট বিষয়টা কি আসলে এত সহজ এবং সস্তা বিষয়? মনে রাখা ভাল যে সঠিক ভাবে রত্ন পাথর পরিক্ষা করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ খুব একটা সহজ কাজ নয়। সারা পৃথিবীতে হাতে গোনা অল্প কিছু ল্যাব রয়েছে যার গ্রহণ যোগ্যতা সারা পৃথিবী ব্যাপী। এর বাহিরে এখন হাজার হাজার নকল ল্যাব গড়ে উঠেছে ভারত সহ পৃথিবীর নানা দেশে।

সঠিক ভাবে একটি রত্ন পাথরকে ল্যাবে পরিক্ষা করতে সর্বনিম্ন ৭-১০ দিন সময় লেগে থাকে। ফলে ৭-১০ দিন অপেক্ষা করে দেশে পাওয়া লক্ষ লক্ষ রত্ন পাথরের আসল ল্যাব সার্টিফিকেট করে আনা একেবারেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে ৫০-১০০ টাকায় এ সব সার্টিফিকেট ৫ মিনিটে কোলকাতার অলিতে গলিতে গড়ে ওঠা কম্পিউটারের দোকান থেকে করে আনা সম্ভব। যেখানে বিক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী রেজাল্ট উল্লেখ করা থাকে। ফলে আগে একটি রত্ন পাথর ক্রয়ের সময় দুশ্চিন্তা কাজ করতো পাথরটি আসল না নকল, এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে সার্টিফিকেটটি আসল না নকল।

সারা পৃথিবীতেই রত্ন পাথরটি খুব বেশী মূল্যবান না হলে ল্যাব টেস্ট করানো হয়না। যেমন ভাল মানের নীলা, পোখরাজ, রুবি ইত্যাদি। তাই নিম্ন অথবা মিডিয়াম কোয়ালিটির রত্ন পাথর সাধারনত ল্যাবে পরিক্ষা করা হয়না। কিন্তু আমাদের দেশের ক্রেতারা ইন্টারনেট থেকে সার্টিফিকেট সম্পর্কে জেনেই যখন বিক্রেতার কাছে সার্টিফিকেট চাইছেন তখন ব্যবসায় করার জন্য আমাদের দেশে এখন নকল ল্যাব সার্টিফিকেট দিয়ে হর হামেশাই আসল এবং নকল রত্ন পাথর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার সার্টিফিকেট চাহিদায় বিক্রেতা যখন নকল পাথর অথবা নকল সার্টিফিকেট দিচ্ছেন এবং ধরা পরছেন তখন সে সকল ব্যবসায়ী ঐ সার্টিফিকেটের উপর দোষ চাপিয়ে দেন। এবং বলেন তারাও সার্টিফিকেট দেখেই পাথরটি কিনেছিলেন। এখন যদি পাথর অথবা সার্টিফিকেট নকল হয় তাহলে তাদের কিছু করার নেই। তাই সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব না দিয়ে এমন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে রত্ন পাথর ক্রয় করা উচিৎ যারা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে স্থায়ী ভাবে ব্যবসায় করছে এবং আছে ব্যবসায়ী সুনাম।

হঠাৎ পরিচিত, নতুন ব্যবসায়ী, অথবা কোথায় থেকে এনে দেবে শর্তে যারা রত্ন পাথর বিক্রি করেন তারাই এমন সব নকল সার্টিফিকেট দিয়ে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। এদের কাছ থেকে অন্ধের মত রত্ন পাথর না ক্রয় করে কোন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভাল মন্দ কোয়ালিটি এবং আসল নকল পাশাপাশি রেখে দেখে বুঝে শুনে নিজের বাজেট অনুযায়ী রত্ন পাথর ক্রয় করা উচিৎ এবং তাদের কাছ থেকে আসল পাথরের লিখিত গ্যারান্টি নেওয়া উচিৎ। সার্টিফিকেটের উপর ভরসা করলে রত্ন পাথর ক্রয়ের পরে সেটা নকল হলে কি আপনি বিদেশী ঠিকানার ল্যাবকে ধরবেন নাকি যার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন তাকে ধরবেন? তাই রত্ন পাথর ক্রয়ের সময় আসল পাথরের লিখির গ্যারান্টি নেওয়া উচিৎ শুধু মাত্রই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। যা আপনার টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।     

Share with your friends:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked. *